"রেইললাইন দিয়া দৌড় দেইস না কইয়া দিলাম,
একবার গেলে বারবার টানে...
ধরতে পারলে পিষি লাইবো.....!
তোর রক্তের ছিটাও পাইতাম না রে ! (বলতে বলতে কান্না আসে দ এর)
বারবার কইরাম আর কুনুদিন-
রেইল লাইন দিয়া দৌড় দেইস না।" কথা না বুঝলে মারাইয়া খা...ভালা কইরা মারা....এতো কথা বুঝানির সময় নাই,
বৌত অসম্মান হইসে...বৌত মানুষে দেখসে.....
(ব্রীজের দিকে তাকায় জং ধরা ব্রিজ নীচ থেকে দেখলে আরো বিবর্ণ দেখায় )।
" ব' নিরুত্তর পোড়ামাটির থালার মতো, ও আজকাল ভাবে, কেবল ভাবে কোনো বিষয়ে ব নিজের অবস্থান স্পষ্ট ভাবতে পারে না, দ কে বোঝাতে পারে না কেনো সে দৌড় দেয় ট্রেনের শব্দ কানে আসলেই।
দ মাত্র একবছর পুরনো এই সমস্যার সমাধান খোঁজে পায় না, আজ একবছর দিন রাত টাকা জমাচ্ছে, যদি একটু অন্য কোথাও যাওয়া যায়, গেলেই তো হবে না, থাকতে হবে ঘরবাড়ি বানাতে হবে, বাড়ির জঙ্গল পরিষ্কার করে- মানুষের বাড়ি বানাতে হবে আর ভবিষ্যত অনিশ্চিত , তা থাকুক , এই সময়ে নিজে বেঁচে গেলে কত ভবিষ্যত নাচবে এসে চোখের পলকে! এই ভাবতে ভাবতেই ভাত খেয়ে এসে 'ব' গামছায় হাত মুছতে মুছতে, স্বপ্নময় একটা মুখ নিয়ে বললো,
"কিতা কস,
জায়গা পাল্টাইলে ঘুম আইবো নি বে..."
দ কখনোই এইসব নাটুকে প্রশ্নের উত্তর দেয় না, কেনো দেবে এইসব কথার কোনো অর্থ নেই, একটু পর ট্রেন আসলে আবার চোখ মুখের রং বদলাবে - আর ট্রেন কি , ট্রেন তো নতুন বাতিক, ঘরে তো সব উপকরণই রয়েছে ফ্যান,গ্যাস,এর আগে চোখের আড়াল হলেই তো বহুবার ব চেষ্টা করেছে.... এমনকি ঘরের দেওয়াল, রাস্তার গাড়ী, চামড়া কাটাকুটি, বিষাক্ত ঔষধ আরো কত!...
গভীর রাতে আরেকটা কাল ট্রেন আসে , রোজ যে ট্রেন টা আসে এই সময়ে,সেই ট্রেন টা!...
বিষাক্ত সেই শব্দ যেনো দ এর মনে গেঁথে গেছে, ক্রমাগত এইসব সামলাতে গিয়ে দ এখন আর আগের মতো কথা বলে না, বাইরের কোনো সমস্যা নিয়ে, ভেতরের কোনো সমস্যা, কলেজ ইউনিভার্সিটির কোনো স্মৃতি, পাগলের মতো কাটানো সেই দিনগুলি, বইয়ের পর বই সিনেমার পর সিনেমা,ঘুরাঘুরি......
এখন দ এর এসব মনেও পড়ে না।
কি হবে কয়েকটা বছর থেমে থাকলেই ভালো হয়তো। আর ভাড়া কে রাখতে চাইবে,এমন একটি বিকট রোগী কে ভাড়া....কারো তো আর কিছু জানার বাকি নেই।
আর ওখানে! আছেন এক বৃদ্ধা মা, তার পক্ষে সম্ভব না সর্বক্ষণ পাহারা দেওয়া সব রাস্তাই বন্ধ হয়েছে।
ব শব্দ পেয়ে নিজের থেকে নিজে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দিকনির্নর্ণয় করতে পারে না তবে ছটফট করে দ সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ......
ব নিজের ট্রাবল সৃষ্টির প্রবণতার উপর লজ্জা হয়, সে একমুহূর্তে ফিরে আসে নিজের মধ্যে দ এর চোখের ঠান্ডা তার চোখে লাগে......
ট্রেন চলে যায় , দ ভাবে এইভাবে চলতে থাকলে ঠিকঠাক পাহারা দিলে ঔষধ চলতে থাকলে বাড়ি বদলালেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
জল খেয়ে দ গিয়ে ব এর পাশে বসে আবার জিজ্ঞেস করে,
''তোর কিতা ওয়? তুই কিতা শান্তি পাস নানি ? ইরকম পাগলের মতো কেনে করছ?আমারে ধর, অতঃ ভালাপাই তোর ভিতরে কাজ করে নানি?"
ব বোঝে, সবসময় সবকিছু বোঝে, ব এর বোঝার ক্ষমতা বেশী কিন্তু ওই এক শব্দ আর অসহনীয় অস্থিরতাই কাল হয়েছে,
'ব' দ কে জড়িয়ে ধরে, ব বোঝে দ এর স্নায়ুর স্বাভাবিকতা ও ভাবে ওর স্নায়ু এমন শান্ত হতে পারে না? এক মুহূর্তের জন্য... ও তো শান্ত হতে চায় তবে কী সে অসুস্থ নয় সবাই ভুল.....!
দ আবার জিজ্ঞেস করে, "তোর কি আমার কোনো ব্যবহারে, বা কোনো কিছু মনো ওয়নি তোর কষ্ট হয় তখন তুই দৌড় দেস......!"
ব উত্তর দেয় না...
দ আরো ক্লান্ত হয়ে বলে, "তোরে জড়াইয়া ধরলেও আমি ওখন কিচ্ছু টের পাই না ...তোর মাথার ভিতরে চলের কিতা, বুঝরাম না রে, আমার হাত পাও ঠান্ডা হইযায়।"
ব প্রশ্ন করে, "মানুষ মরলে কই যায় বে ?"
দ বলে, "রক্ষা কর ইটি ভাবা বন্ধ কর......তুই নিজেও শান্তিতে থাক ....আমারে ইতা জিগাইস্ না আমি সব জানতা না''
ব আবার জিজ্ঞেস করে, "মরলে শান্তি হয় নি?"
দ আবার বলে, "তোর মতো মরইন যেতায় ইতার ওয় না..."
ব বলে, "তুই দেখি আমারে ছাইড়া যাস না? না পুসাইলে তো ছাড়তে কেনে নিজের জীবন নিজে নষ্ট কররে?"
দ বলে, "বেশী মাতোস বেশী ভাবস ফল কিতা হর তো বুঝরেই মইরা তোর কাম কিতা থাইক্যা কাজ কর- বাঁচার ইচ্ছা নাই নি ,আমি কইয়ার না বাঁচলে খুব শান্তি পাইলাইবে কিন্তু দেখবে তো অনুভব করবে জানবে শুনবে ভাববে অবাক হইবে মরলে তো ইতা কিচ্ছু পারতে না... যারা ইচ্ছা কইরা মরে ইতার ঠাই কুনু জায়গাত হয়না ভূতেও লয় না মানুষেও না যে ডালে বয় ওউ ডাল ওউ ভাঙ্গিয়া পড়ে যন্ত্রণায় কান্দে কেউ তারার মুক্তির প্রার্থনা শোনে না।"
দ সব রকমের চেষ্টা করে তাই ছোটবেলায় যা বুড়োদের মুখে শুনেছে ভয় হয়েছে সেইসব ভয় আজ ব কে দেখাতে চায় ঔষধে মায়ায় ভয় দেখিয়ে শাসনে বিশ্বাসে ভুল শুদ্ধে বুঝিয়ে শান্ত করতে চায়...
অস্থায়ী জেনেও হাল ছাড়ে না যদি আবার স্পর্শ করা যায় ব এর অন্তর্জগৎ ঠিক কলেজের মতো-
ব বলে, "চল আপাতত ভাড়া যাই তারপরে দেখি নতুন বাড়ি যাওয়া যাইবো।"
দ আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে,
তুই ঠিক কর কই যাইতে কালকে সকালে জানাইস।'
কথা শেষ না হতেই আবার ট্রেন আসে শব্দে ব খামচে ধরে নিজের মাথার চুল আবার অস্থির হয়ে যায়,
' আমি মরলেই তোর শান্তি'
' আমারে পুড়াইয়া- আর ভাববে নি আমার কথা?'
চোখে মুখে সেই তিক্ততা জটিলতার ছাপ হাত পা কাপা দৃশ্য দ বহুবার দেখেছে ও জানে ও যদি ব এর উপর বিরক্ত হয় ওকে কোথায় গিয়ে থাকতে হবে কিন্তু আর উপায় নেই উপায় আগেও ছিলো না তবুও তো চেষ্টা .........!(দীর্ঘশ্বাস ফেলে)
দ বলে, "তুই জায়গা দেখ কোন জায়গা তোর পছন্দ আর সকালে জানা আমি আছি।"
ব ঝিমিয়ে যায় আর অল্পসময়ের জন্য দেখতে থাকে গুগলে কোথায় ভালো জায়গা আছে,
আর দ যাবতীয় মানসিক হাসপাতালের ফেসিলিটি দেখে গুগলে আর চোখের দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে আসে সব প্রেসক্রিপশন গুলি ঘাঁটতে থাকে রাত তখনও শেষ হয়নি। এই রাত শেষ হওয়ার ছিলো, সহজেই শেষ হয়ে যেতে পারতো অসুস্থতার রাত পোহায়না মানুষ জেগে থাকলে ভোর হয়না,এই রাত তেমন একটি আলোকিত রাত কোনো অভিশাপে থেমে গেছে, মাথার ভেতরে অপরিকল্পিত অসহায়তা নিয়ে।


0 মন্তব্যসমূহ